পরীক্ষা মূলক আপডেট
সর্বশেষ আপডেট:
যেসব কারণে রিজিকের বরকত কমে যায় উত্তর আমেরিকান অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সময়সূচি ওসমানীর ল্যাবে করোনা টেস্ট বন্ধ, বিদেশগামী যাত্রীরা বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রে সুগম হলো ৪০ সহস্রাধিক বাংলাদেশির নাগরিকত্ব লাভের পথ আমি বিয়ে করব না: অভিনেত্রী সুনেরাহ গোপীবাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু ফের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দ্বিতীয় ঢাকা, বায়ুমান খুবই অস্বাস্থ্যকর ভাস্কর্য বিতর্কের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখছেন : ওবায়দুল কাদের ১০ জেলায় অ্যান্টিজেন টেস্ট উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ঘুরে আসুন নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থানসমূহ

ডেস্ক রিপোর্ট:
  • আপডেটের সময়: শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২০
  • 62 পাঠক
ঘুরে আসুন নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থানসমূহ
ঘুরে আসুন নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থানসমূহ

বাংলাদেশের দক্ষিণে মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি সুপ্রাচীন জনপদ নোয়াখালী জেলা। এই জেলার মো আয়তন ৪২০২ বর্গ কিলোমিটার। অবস্থান ২২°০৭’ থেকে ২৩°০৮’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৩’ থেকে ৯১°২৭’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

সীমানা:
নোয়াখালী জেলার উত্তরে কুমিল্লা জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ফেনী জেলা ও চট্টগ্রাম এবং পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর জেলা ও ভোলা জেলা অবস্থিত।

এই জেলার পর্যটন অঞ্চল ও দর্শনীয় স্থান হিসাবে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, গান্ধী আশ্রম নোয়াখালী, নিঝুম দ্বীপ ও বজরা শাহী মসজিদ উল্লেখযোগ্য।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর :
মুক্তিযুদ্ধের বীর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জাতীয় সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন সোনাইমুড়ীবাসীর গর্বের ধন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রুহুল আমিন। তাঁর নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর গত ২০ জুলাই ২০০৮ সালে স্থাপন করা হয় তার নিজ গ্রামে। নোয়াখালী জেলা সদর থেকে ২৫ কিঃমিঃ উত্তর এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার সদর থেকে ৮ কিঃমিঃ পশ্চিমে দেওটি ইউনিয়নভুক্ত বর্তমান রুহুল আমিন নগর (বাগপাচরা) গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রুহুল আমিনের পৈত্রিক ভূমিতে নির্মাণ করা হয় এ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রুহুল আমিনের পরিবারের সদস্যগণ কর্তৃকদানকৃত ০.২০ একর ভূমিতে ৬২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এ গ্রন্থাগার ও স্মৃতিজাদুঘর। এতে আছে একটি সুপরিসর এবং সুসজ্জিত পাঠ-কক্ষ ছাড়াও অভ্যর্থনা কক্ষ, তত্ত্ববধায়ক ও লাইব্রেরিয়ানের জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষ।

অবস্থান:
নোয়াখালী জেলা সদর থেকে ২৫ কি:মি: উত্তর এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার সদর থেকে ৮ কি:মি: পশ্চিমে দেওটি ইউনিয়নভুক্ত বর্তমান রুহুল আমিন নগর (বাগপাচরা)।

কীভাবে যাবেন:
উপজেলা সোনাইমুড়ীর কলেজ গেট থেকে সিএনজি চালিত অটো-রিক্সায় রুহুল আমিন সড়ক দিয়ে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নান্দিয়াপাড়া পূর্ব বাজার এসে দক্ষিণে তাকালেই ২০০ গজ দূরে দেখা যায় এই স্মৃতি জাদুঘর ও বীরশ্রেষ্ঠের বাড়ি।

গান্ধী আশ্রম নোয়াখালী :
গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি দর্শনীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন। জেলা সদর মাইজদী কোর্ট হতে প্রায় ২৫ কিঃমিঃ উত্তরে সোনামুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশেই এর অবস্থান। তৎকালীন জমিদার প্রয়াত ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে উক্ত গান্ধী আশ্রম স্থাপিত হয়। ১৯৪৬- এর শেষভাগে সারা ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। তখন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার নোয়াখালীতে প্রভাব পড়ে।

১৯৪৬ সালের ৭ নভেম্বর চৌমুহনী রেলস্টেশনে প্রথম মহাত্মাগান্ধী নোয়াখালীর মাটিতে পদার্পন করেন। ধারাবাহিকভাবে চলল তার পরিক্রমা। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে ১৯৪৭ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি জয়াগ গ্রামে এসে পৌঁছেন। সেদিনই নোয়াখালী জেলার প্রথম ব্যারিস্টার জয়াগ গ্রামের কৃতী সন্তান হেমন্ত কুমার ঘোষ মহাশয় তার জমিদারির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জনকল্যাণ খাতে ব্যয়ের উদ্দেশ্যে মহাত্মা গান্ধীর নামে উৎসর্গ করেন। আশ্রম পরিচালনার ভার দেওয়া হয় গান্ধীজীর স্নেহভাজন, জনসেবা ব্রতী, চিরকুমার শ্রীযুক্ত চারু চৌধুরী মহাশয়ের ওপর। বর্তমানে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব হিসাবে কর্মরত আছেন শ্রীমতি ঝর্ণা ধারা চৌধুরী (৭২)।

কীভাবে যাবেন :
নোয়াখালী জেলা সদর মাইজদী হতে সোনাইমুড়ী গামী যেকোন লোকাল বাস সার্ভিস/ সিএনজি অটোরিক্সা যোগে সম্মুখে জয়াগ বাজার নেমে রিক্সা বা পায়ে হেঁটে আধা কিলোমিটার পুর্বে গেলে গান্ধী আশ্রমে পৌঁছানো যাবে।

নিঝুম দ্বীপ:
বঙ্গোপসাগরের মোহনায় নোয়াখালীর সর্বদক্ষিণের উপজেলা হাতিয়ায় এ দ্বীপ। নোয়াখালীর আরও একটি দর্শনী স্থানের মধ্যে অন্যতম মেঘনা এখানে সাগরে পড়েছে। চারটি প্রধান দ্বীপ ও কয়েকটি চরের সমষ্টি নিঝুম দ্বীপ। কেওড়ার বন আছে এখানে। বনে হরিণ আছে অনেক। বন বিভাগের বিশ্রামাগার আছে দ্বীপে। ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি খিজির প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হাতিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। ডেকে ভাড়া ২৩০ টাকা, কেবিন ১২০০ টাকা। হাতিয়ার নলচিরি থেকে সিএনজি অথবা বাসে চেপে জাহাজমারা পর্যন্ত যাওয়া যায়। ভাড়া ৪০ টাকা। তারপর নদী পার হলে নিঝুম দ্বীপ।

বজরা শাহী মসজিদ :
বেগমগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাশে এ মসজিদ দিল্লির শাহি জামে মসজিদের অনুকরণে নির্মিত। লোকমুখে জানা যায়, দিল্লির সম্রাট বাহাদুর শাহ বেগমগঞ্জের বজরা অঞ্চলের জমিদারি দান করেছিলেন দুই সহোদর আমান উল্যা ও ছানা উল্যাকে। তারা একটি দিঘি খনন ও মসজিদ নির্মাণের জন্য ১০০ একর জমির বন্দোবস্ত দেন। মসজিদটি মার্বেল পাথরে তৈরি। দিঘিটি আছে মসজিদের সম্মুখভাগেই। মসজিদের প্রধান ফটকের দুই পাশে দুটি দেয়ালঘড়ি আছে। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে একুশ, বিলাসসহ বেশ কিছু পরিবহনের গাড়িতে সোনাইমুড়ী যাওয়া যায়। ভাড়া ৩০০ টাকা। সোনাইমুড়ী-বেগমগঞ্জ সড়কে বজরা রাস্তার পাশেই মসজিদটি।

এছাড়াও দৃষ্টি নন্দন সোনাপুরে লুর্দের রাণীর গীর্জা, উপমহাদেশ খ্যাত সোনাইমুড়ির জয়াগে অবস্থিত গান্ধি আশ্রম, নোয়াখালীর উপকূলে নতুন জেগে উঠা চরে বন বিভাগের সৃজনকৃত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, মাইজদী শহরে অবস্থিত নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ, নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মাইজদী বড় দীঘি, কমলা রাণীর দীঘি ইত্যাদি।

কীভাবে যাবেন
নোয়াখালী জেলায় যাতায়তের জন্য সড়ক ও রেল– এ দু’ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে সড়ক যোগাযোগই প্রধান। এস আলম, সৌদিয়া, সোহাগ, কেয়া পরিবহন, শ্যামলী, গ্রিনলাইন, হিমাচল, ঢাকা এক্সপ্রেস, ইকোনো পরিবহন ইত্যাদি রয়েছে।

মুছাপুর সী-বীচ :
এটি কোম্পানীনঞ্জ থানার, মুছাপুর গ্রামে, ছোট ফেনী নদীর পাশে অবস্থিত। প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার। ত্বত্তাবধায়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে মুছাপুর সী-বীচ এবং মুছাপুর ফরেষ্ট বাগান দেখার জন্য।

বিখ্যাত খাবার
নোয়াখালীর নারকেল নাড়ু ও ম্যাড়া পিঠা।

নদী সমূহ : বামনী ও মেঘনা

কোথায় থাকবেন :
নোয়াখালীতে রয়েছে বিভিন্ন মানের, মানভেদে দামের, অনেকগুলো হোটেল হোটেল মৌচাক, হোটেল লিটন, হোটেল নিজাম,হোটেল আর-ফারহান,হোটেল রয়েল,হোটেল মোবারক,সাথী আবাসিক হোটেল,হোটেল প্রিন্স আবাসিক (হাতিয়া), হোটেল সিঙ্গাপুর আবাসিক (হাতিয়া), হোটেল হংকং আবাসিক (হাতিয়া) ইত্যাদি।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *