পরীক্ষা মূলক আপডেট

মাদক থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়: শুক্রবার, জানুয়ারি ২২, ২০২১
  • 64 পাঠক
মাদক থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম
মাদক থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম

মানুষ সৃষ্টির সেরা। মানুষের জন্য যা কিছু কল্যাণকর ও উপকারী তা মহান আল্লাহ তাঁর পেয়ারা হাবিব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বারা জানিয়ে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে যা কিছু ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গোটা পৃথিবীর রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর আমি আপনাকে পৃথিবীর রহমতরূপে পাঠিয়েছি।’ যখন তিনি এ পৃথিবীতে আসেন তখন পৃথিবীর সর্বত্র ছিল জুলুম -নির্যাতনের বাড়াবাড়ি, বিদ্বেষ-হানাহানি, কুপ্রথা ও অশ্লীলতায় ভরপুর। মানুষ আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে কল্পিত দেবতাদের মূর্তিপূজায় নিজেদের নিমগ্ন রেখেছিল। আর সর্বত্র অবাধে চলত মদ্যপান ও অশ্লীল বেহায়াপনা। এহেন কঠিন মুহূর্তে ইসলাম এসেছে বিশ্বমানবতার দ্বারে শান্তির বার্তা নিয়ে আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন-বিধান হিসেবে। এতে রয়েছে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক পথের সঠিক দিশা।

আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ আহার কর, যা আমি তোমাদের জীবিকা হিসেবে দান করেছি এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা তারই বন্দেগি করে থাকো।’ সুরা বাকারা, আয়াত ১৭২। উপরোক্ত আয়াতে মুমিনদের হালাল বস্তু পান ও আহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। প্রকারান্তরে যা কিছু হারাম তা পরিহারের ইশারা দেওয়া হয়েছে।

যেসব পানীয় এবং দ্রব্য সুস্থ ও স্বচ্ছ বিবেক অবলুপ্ত করে তা-ই মাদক এবং এটি হারাম। মাদক শব্দটি এসেছে মদ থেকে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সব নেশাকারী বস্তুই মদ বা মাদক আর সব নেশাকারী বস্তুই হারাম। মাদকদ্রব্য প্রাকৃতিক হোক যেমন মদ, তাড়ি, আফিম, গাঁজা, চরস, হাশিশ ইত্যাদি আর রাসায়নিক হোক যেমন ইয়াবা, হেরোইন, মরফিন, কোকেন, প্যাথেড্রিন, ফেনসিডিল ইত্যাদি- পরিমাণে কম হোক আর বেশি হোক পান বা আহার বা অন্য কোনোভাবে গ্রহণ করা হারাম। ইসলামী চিন্তাবিদদের সর্বসম্মত অভিমত, ইসলামে মদ্যপান সম্পূর্ণ হারাম। আল কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিন! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার দেবী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণে ও সালাতে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?’ সুরা মায়েদা, আয়াত ৯০-৯১।
লক্ষণীয়, কোরআনে মূর্তিপূজা, জুয়া ও ভাগ্যনির্ণায়ক শরের মতো মাদককে অভিন্ন কাতারে ফেলা হয়েছে এবং এ থেকে দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা মদপান কোর না, কেননা মদ সব অনিষ্টের চাবিকাঠি।’ ইবনে মাজাহ। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি ইমানদার অবস্থায় মদপান করে না।’ মুসনাদে আহমাদ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, ‘মদ্যপায়ী ব্যক্তি মৃত্যুর পর মূর্তিপূজারির মতো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ তিবরানি। ইরশাদ হচ্ছে, ‘মদ্যপায়ী ব্যক্তি মৃত্যুর পর জান্নাতে যাবে না।’ ইবনে হিব্বান।

কোরআন ও হাদিসের নিরিখে মাদক গ্রহণকারীদের ইহকাল শুধু নয় পরকালেও কঠিন সাজার সম্মুখীন হতে হবে। মাদকের অপকারিতা অসংখ্য- যেমন এটা আল্লাহর ইবাদতে ও নামাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, চিন্তা ও বিবেককে বিকৃত করে এবং পরস্পরের মাঝে হিংসা ও শত্রুতার জন্ম দেয়। এ ছাড়া আখিরাতের কঠিন ও ভয়াবহ শাস্তি তো রয়েছেই। মাদকের সঙ্গে বহু ধরনের গুরুতর অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে। মাদক সেবনকারী জিনা ও অশ্লীল কাজে এবং কঠিন গুনাহর মধ্যে রত থাকে।

হজরত আনাস (রা.) রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘রসুলুল্লাহ মদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে এমন ১০ শ্রেণির ব্যক্তিকে লানত করেছেন। ১. যে লোক নির্যাস বের করে। ২. প্রস্তুতকারক। ৩. পানকারী। ৪. যে পান করায়। ৫. আমদানিকারক। ৬. যার জন্য আমদানি করা হয়। ৭. বিক্রেতা। ৮. ক্রেতা। ৯. সরবরাহকারী ও ১০. এর লভ্যাংশ ভোগকারী।’ তিরমিজি।

মদ শারীরিক ও মানসিকভাবে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইসলামী শরিয়তে তাই মাদক নিষিদ্ধ। আল কোরআনে হারাম ঘোষণার পর মদ বাজারের রাস্তায় ঢেলে দেওয়া হয় এবং পানপাত্র ভেঙে চুরমার করা হয়। মাদকাসক্তি মানুষের দেহে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। মাদকদ্রব্য গ্রহণে ফুসফুস ও মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি হয়, হৃৎস্পন্দন ও নাড়ির গতি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়, দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মুখ ও গলা শুকিয়ে আসে। মাদকে হজমশক্তি হ্রাস পায়, খাদ্যস্পৃহা কমে যায়। ফলে মানবদেহে ক্রমাগত অপুষ্টি বাসা বাঁধে। মাদক সেবন বক্ষব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশার ব্যয় সংকুলানে অপরাধে লিপ্ত হয়। এ জন্য রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য সব অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল।’

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাদকাসক্তি যেমন একটি চরম অপরাধ তেমনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি জঘন্য পাপাচার। তাই সমাজে এমন ঘৃণ্য মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও প্রসার রোধ করা খুবই দরকার। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাদক থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন।

Please Share This Post in Your Social Media

এ বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *