দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতারণার দায়ে জেল হলো গান্ধীর প্রপৌত্রীর

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ২০ Time View

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্রী আশিসলতা রামগোবিন।

তাঁর বিরুদ্ধে ৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০ ডলার মূল্যের প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই শিল্পপতি তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন এবং দোষী প্রমাণিতও হয়েছেন গান্ধীর নাতনির মেয়ে। তাই কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ডারবানের আদালত। প্রতারণা ও জালিয়াতির দায়ে সাত বছরের জন্য জেলে থাকতে হবে ৫৬ বছরের এই নারীকে।

জানা গেছে,দক্ষিণ আফ্রিকায় এর আগেও বহুবার তিনি জেলে গেছেন। ভারতের বর্ণবিদ্বেষ ও নানা আইন নিয়ে লড়াই করে তিনি কারাবরণ করেছিলেন।

এবার অভিযোগ উঠেছে, তিনি দুই শিল্পপতিকে ঠকিয়েছেন। তাঁরা আশিসলতার বিরুদ্ধে ৮,৩১,৩৮০ ডলার প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতারণা অনুসন্ধান সংস্থা ‘হক্‌স’-এর প্রধান কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার হাংওয়ানি মুলাউদজি জানিয়েছেন, গান্ধীর বংশধরের হেফাজত থেকে বেশ কয়েকটি ভুয়া রসিদ ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে তিনটি কন্টেইনার বোঝাই চাদর।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সব নকল নথি, রসিদপত্র দেখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীর থেকে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করেছিলেন মহাত্মার প্রপৌত্রী। কিন্তু পরে জানা যায়, কোনো দ্রব্যই রপ্তানি করা হয়নি।

হাংওয়ানির মুলাউদজির আরো দাবি, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন। জানা গেছে, বেসরকারি হাসপাতাল গ্রুপ ‘নেটকেয়ার’-কে বিছানা সরবরাহের বরাত জোগাড় করেছিলেন আশিসলতা রামগোবিন। সেই বিছানা কোথা থেকে আনাতেন তিনি? জানা গেছে, ভারত থেকে জাহাজে কন্টেইনার বোঝাই বিছানা আমদানি করেন তিনি।

এসআর মহারাজ নামে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেকজন শিল্পপতির কাছ থেকে ৬২ লাখ র‍্যান্ড নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিনিয়োগ করা অর্থের মোটা অঙ্কের সুদ মিলবে বলে মহারাজকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, ওই অর্থ বিভিন্ন শুল্ক মেটাতে খরচ করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, একই কৌশলে অন্য এক বিনিয়োগকারীর থেকে ৫২ লাখ র‍্যান্ড অগ্রিম হিসাবে আদায় করেছিলেন গান্ধীর প্রপৌত্রী।

জানা গেছে, তিনি বিখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ইলা গান্ধী এবং মেওয়া রামগোবিনের সন্তান। তাঁরা গান্ধীর দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকার সময় ঐতিহাসিক ফিনিক্স চুক্তিপত্র উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সূত্র : কলকাতা টোয়েন্টিফোর।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *