Dhaka 10:54 pm, Wednesday, 24 April 2024

করোনার প্রাদুর্ভাব : ৩৭১ ইউপির ভোটগ্রহণ নিয়ে ভাবছে ইসি

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:16:53 am, Tuesday, 30 March 2021
  • 378 Time View

 

সাগর হোসেন : দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে গতকাল সোমবার। এতে যেমন চিন্তিত গোটা দেশ, একই সঙ্গে চিন্তিত নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। সেজন্য সোমবার ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিল ইসি। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

তবে এই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ, নির্বাচন সংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার কমিশনের। সামনে কমিশনের বৈঠক রয়েছে সেখানেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘আজকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বাদে বাকি চারজন কমিশনারসহ সচিব উপস্থিত ছিলেন। পাঁচজনই আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১১টি পৌরসভার ভোট স্থগিতের পক্ষে মত দিয়েছেন।’

সূত্রটি আরও বলেন, ‘১১ এপ্রিল ইউপির ভোট না হলেও আগামী ৩১ মার্চ দেশের চার পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যশোর সদর ও মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভায় সব পদে এবং ঠাকুরগাঁও সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি করে সাধারণ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভার এই ভোটগ্রহণের পক্ষে  কমিশনাররা মত দিয়েছেন। যদি ইউপির ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়, তবে তা আর ঈদের আগে হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।’

বৈঠকের পরে সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদেকর। এদের মধ্যে রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইউপির ভোট নিয়ে আপনি কী মতামত দিয়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ভোটগ্রহণ করা হয় এবং নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে যদি কেউ করোনা আক্রান্ত হন, সেই দায় কে নেবে? সেজন্য ইউপির ভোট স্থগিত করা যায় কি-না, সেই ব্যাপারে কমিশনের চিন্তা করা উচিত।’

একই প্রশ্ন করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমকে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি তো খুবই খারাপ। এর মধ্যে ভোট হলে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকরা ভোটের প্রচার চালাবেন। সেক্ষেত্রে সেখান থেকে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

‘এই পরিস্থিতিতে ইউপি ও ১১ পৌরসভার ভোট না হওয়ার পক্ষে আমার মতামত। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ১ এপ্রিল কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ভোট হবে কি হবে না’, যোগ করেন কবিতা খানম।

সোমবারের জরুরি বৈঠকের আরেকটি সূত্র জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে ভোট স্থগিত করার প্রসঙ্গে আলোচনা হলেও লিখিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ, কমিশন সভায় ছাড়া এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। সুতরাং আগামী কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না হবে তা নিয়ে আরও আলোচনার দরকার আছে। এদিকে একই দিনে ১১টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। পৌরসভার ভোটগ্রহণ নিয়েও ভাবছে ইসি।

এদিকে আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চার পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার শেষ হচ্ছে আজ সোমবার মধ্যরাতে।

ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়। এসব পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে ৩১ মার্চ সকাল ৮টায়। সেই হিসেবে সোমবার মধ্যরাতের পর আর কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থক ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন না।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ৩১ মার্চের চার পৌরসভায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ৫৪ ঘণ্টার জন্য বাইক চলাচল বন্ধ থাকবে। আর ভোটের দিন বন্ধ থাকবে সব ধরনের যান চলাচল।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল ৩৭১টি ইউপি ও ১১টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত আছে। গত বছরও করোনার কারণে বেশ কিছু নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

করোনার প্রাদুর্ভাব : ৩৭১ ইউপির ভোটগ্রহণ নিয়ে ভাবছে ইসি

Update Time : 03:16:53 am, Tuesday, 30 March 2021

 

সাগর হোসেন : দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে গতকাল সোমবার। এতে যেমন চিন্তিত গোটা দেশ, একই সঙ্গে চিন্তিত নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। সেজন্য সোমবার ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিল ইসি। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

তবে এই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ, নির্বাচন সংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার কমিশনের। সামনে কমিশনের বৈঠক রয়েছে সেখানেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘আজকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বাদে বাকি চারজন কমিশনারসহ সচিব উপস্থিত ছিলেন। পাঁচজনই আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১১টি পৌরসভার ভোট স্থগিতের পক্ষে মত দিয়েছেন।’

সূত্রটি আরও বলেন, ‘১১ এপ্রিল ইউপির ভোট না হলেও আগামী ৩১ মার্চ দেশের চার পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যশোর সদর ও মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভায় সব পদে এবং ঠাকুরগাঁও সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি করে সাধারণ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভার এই ভোটগ্রহণের পক্ষে  কমিশনাররা মত দিয়েছেন। যদি ইউপির ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়, তবে তা আর ঈদের আগে হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।’

বৈঠকের পরে সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদেকর। এদের মধ্যে রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইউপির ভোট নিয়ে আপনি কী মতামত দিয়েছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ভোটগ্রহণ করা হয় এবং নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে যদি কেউ করোনা আক্রান্ত হন, সেই দায় কে নেবে? সেজন্য ইউপির ভোট স্থগিত করা যায় কি-না, সেই ব্যাপারে কমিশনের চিন্তা করা উচিত।’

একই প্রশ্ন করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমকে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি তো খুবই খারাপ। এর মধ্যে ভোট হলে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকরা ভোটের প্রচার চালাবেন। সেক্ষেত্রে সেখান থেকে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

‘এই পরিস্থিতিতে ইউপি ও ১১ পৌরসভার ভোট না হওয়ার পক্ষে আমার মতামত। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ১ এপ্রিল কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ভোট হবে কি হবে না’, যোগ করেন কবিতা খানম।

সোমবারের জরুরি বৈঠকের আরেকটি সূত্র জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে ভোট স্থগিত করার প্রসঙ্গে আলোচনা হলেও লিখিত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ, কমিশন সভায় ছাড়া এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। সুতরাং আগামী কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না হবে তা নিয়ে আরও আলোচনার দরকার আছে। এদিকে একই দিনে ১১টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। পৌরসভার ভোটগ্রহণ নিয়েও ভাবছে ইসি।

এদিকে আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য চার পৌরসভা নির্বাচনের প্রচার শেষ হচ্ছে আজ সোমবার মধ্যরাতে।

ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়। এসব পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে ৩১ মার্চ সকাল ৮টায়। সেই হিসেবে সোমবার মধ্যরাতের পর আর কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থক ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন না।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ৩১ মার্চের চার পৌরসভায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ৫৪ ঘণ্টার জন্য বাইক চলাচল বন্ধ থাকবে। আর ভোটের দিন বন্ধ থাকবে সব ধরনের যান চলাচল।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল ৩৭১টি ইউপি ও ১১টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত আছে। গত বছরও করোনার কারণে বেশ কিছু নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন।