Dhaka 11:17 pm, Friday, 19 April 2024

মামুনুল হককে গ্রেফতার না করলে সোমবার হরতালের ঘোষনা

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:35:08 pm, Thursday, 1 April 2021
  • 405 Time View

এনবি নিউজ : আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী পিপলস পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক ও নাশকতায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি করেছে। আগামী রোববারের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা না হলে সোমবার (৫ এপ্রিল) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

‘ইসলামের নামে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায়-মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, অযথা জ্বালাও-পোড়াও করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। ইসলামের স্বার্থে বা ইসলামিক কোনো দাবি আদায়ের ক্ষেত্রেও ইসলামের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। এক্ষেত্রে দেশে ইসলামী ধর্মীয় দলগুলোকে আরও সচেতন হওয়া দরকার।

হরতালের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই হরতাল কঠোরভাবে পালন করা হবে। রিকশা-সাইকেল কোনো কিছুই চলতে দেব না। সেই সঙ্গে মামুনুল হকের বাড়ি ঘেরাও করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় শনিবার বিক্ষোভ ও রোববার হরতাল ডাকে হেফাজতে ইসলাম। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হামলা, ভাংচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকটি থানায় হামলা, ভাংচুর, অস্ত্র লুটসহ বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।রোববার হরতালের দিনও ঢাকাসহ সারা দেশে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ, হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা, এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে দিনভর। রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই দুই দিনে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রোববার পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১০ ও চট্টগ্রামে ৪ জন নিহত হন।

হেফাজতে ইসলামের হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ চার জেলায় আরও ১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাত সাড়ে ১১ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। হাটহাজারীতে ছয়টি মামলায় অজ্ঞাত আড়াই হাজার জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও চারটি মামলায় সাড়ে ৫ হাজার জন, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি মামলায় ৩ হাজার এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি মামলায় ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। রোববার হেফাজতের ডাকা হরতাল এবং এর আগের দিন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এসব মামলা করা হয়।

এ টি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মামুনুল হককে গ্রেফতার না করলে সোমবার হরতালের ঘোষনা

Update Time : 01:35:08 pm, Thursday, 1 April 2021

এনবি নিউজ : আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী পিপলস পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক ও নাশকতায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি করেছে। আগামী রোববারের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা না হলে সোমবার (৫ এপ্রিল) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি পালনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

‘ইসলামের নামে যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায়-মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইন বলেন, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, অযথা জ্বালাও-পোড়াও করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। ইসলামের স্বার্থে বা ইসলামিক কোনো দাবি আদায়ের ক্ষেত্রেও ইসলামের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি এবং শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। এক্ষেত্রে দেশে ইসলামী ধর্মীয় দলগুলোকে আরও সচেতন হওয়া দরকার।

হরতালের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই হরতাল কঠোরভাবে পালন করা হবে। রিকশা-সাইকেল কোনো কিছুই চলতে দেব না। সেই সঙ্গে মামুনুল হকের বাড়ি ঘেরাও করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় শনিবার বিক্ষোভ ও রোববার হরতাল ডাকে হেফাজতে ইসলাম। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হামলা, ভাংচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকটি থানায় হামলা, ভাংচুর, অস্ত্র লুটসহ বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।রোববার হরতালের দিনও ঢাকাসহ সারা দেশে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ, হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা, এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে দিনভর। রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হয়। এই দুই দিনে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রোববার পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১০ ও চট্টগ্রামে ৪ জন নিহত হন।

হেফাজতে ইসলামের হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ চার জেলায় আরও ১২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাত সাড়ে ১১ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। হাটহাজারীতে ছয়টি মামলায় অজ্ঞাত আড়াই হাজার জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও চারটি মামলায় সাড়ে ৫ হাজার জন, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি মামলায় ৩ হাজার এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি মামলায় ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। রোববার হেফাজতের ডাকা হরতাল এবং এর আগের দিন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এসব মামলা করা হয়।

এ টি