Dhaka 12:42 pm, Monday, 22 April 2024

শিশুদের হতাশায় ফেলবেন না— এইচএসসির ফলপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:43:49 am, Saturday, 30 January 2021
  • 247 Time View

 

সাগর হোসেন : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশেষ এই পরিস্থিতির কারণেই বিশেষভাবে এই পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের ফল প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই ফল প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এভাবে ঘোষণা করা ফল নিয়ে কোনো ধরনের বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা না হওয়া নিয়ে পরীক্ষার্থীদের এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অবস্থাতেও অনেকে এই পরীক্ষা ও ফল নিয়ে সমালোচনা করছেন। তাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। মহামারির কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে হবে, যেন তারা হতাশ হয়ে না পড়ে। আপনারা শিশুদের হতাশায় ফেলবেন না।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মাউসের একটি ক্লিকের মাধ্যমেই এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে সবার জন্য এই ফল উন্মুক্ত হলো। www.educationboard.results.gov.bd সাইট থেকে এই ফল জানা যাবে। এসএসসি ও জেএসসি এবং সমমান পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের গ্রেড তৈরি করা হলেও এবারে শতভাগ পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এভাবে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা চেয়েছি তাদের শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর যেন না হারিয়ে যায়। সেটিই লক্ষ্য ছিল। সে কারণেই পরীক্ষা না হলেও তাদের উত্তীর্ণ হচ্ছে। তাদের আগের শিক্ষাজীবনের ফলের ভিত্তিতে ফল তৈরি করা হয়েছে। আমি আশা করব, তারা পরবর্তী সময়ে নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই উচ্চশিক্ষা নেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পরীক্ষা না নিতে পারলেও শিক্ষার্থীদের অন্তত রেজাল্টটা দিতে পারলাম। অন্য অনেক দেশও একইভাবে রেজাল্ট দিয়েছে। আমি আশা করব, শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে আমি বলব, ছেলেমেয়েরা যেন পড়ালেখায় মনোযোগী হয়— আমি সবাইকে সেদিকে নজর দিতে বলব।

এইচএসসি ও সমমান পর্যায়ের পরীক্ষার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ফলের মাধ্যমে যেন শিক্ষার্থীদের জীবন সুন্দরতর হয়, সেই কামনা করছি। আমি সবার জন্য দোয়া করছি, আশীর্বাদ করছি।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এই ফল গ্রহণ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শিশুদের হতাশায় ফেলবেন না— এইচএসসির ফলপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী

Update Time : 05:43:49 am, Saturday, 30 January 2021

 

সাগর হোসেন : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশেষ এই পরিস্থিতির কারণেই বিশেষভাবে এই পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের ফল প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই ফল প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এভাবে ঘোষণা করা ফল নিয়ে কোনো ধরনের বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা না হওয়া নিয়ে পরীক্ষার্থীদের এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অবস্থাতেও অনেকে এই পরীক্ষা ও ফল নিয়ে সমালোচনা করছেন। তাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। মহামারির কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু তাদের পড়াশোনার মধ্যে রাখতে হবে, যেন তারা হতাশ হয়ে না পড়ে। আপনারা শিশুদের হতাশায় ফেলবেন না।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মাউসের একটি ক্লিকের মাধ্যমেই এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে সবার জন্য এই ফল উন্মুক্ত হলো। www.educationboard.results.gov.bd সাইট থেকে এই ফল জানা যাবে। এসএসসি ও জেএসসি এবং সমমান পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের গ্রেড তৈরি করা হলেও এবারে শতভাগ পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এভাবে ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা চেয়েছি তাদের শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর যেন না হারিয়ে যায়। সেটিই লক্ষ্য ছিল। সে কারণেই পরীক্ষা না হলেও তাদের উত্তীর্ণ হচ্ছে। তাদের আগের শিক্ষাজীবনের ফলের ভিত্তিতে ফল তৈরি করা হয়েছে। আমি আশা করব, তারা পরবর্তী সময়ে নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই উচ্চশিক্ষা নেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পরীক্ষা না নিতে পারলেও শিক্ষার্থীদের অন্তত রেজাল্টটা দিতে পারলাম। অন্য অনেক দেশও একইভাবে রেজাল্ট দিয়েছে। আমি আশা করব, শিক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে আমি বলব, ছেলেমেয়েরা যেন পড়ালেখায় মনোযোগী হয়— আমি সবাইকে সেদিকে নজর দিতে বলব।

এইচএসসি ও সমমান পর্যায়ের পরীক্ষার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ফলের মাধ্যমে যেন শিক্ষার্থীদের জীবন সুন্দরতর হয়, সেই কামনা করছি। আমি সবার জন্য দোয়া করছি, আশীর্বাদ করছি।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলসহ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পর শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এই ফল গ্রহণ করেন।